১.১৩ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছে ছয় মাসে

মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বছরের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারও ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার (২৮ মিলিয়ন) ব্যাংকগুলোর কাছে বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আমদানি বাড়ায় বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে গেছে। সেই চাহিদার সুযোগ নিয়ে ব্যাংকগুলো আন্ত:ব্যাংক মুদ্রাবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়েও বেশি দামে ডলার বিক্রি করেছে।সে কারণেই বাজারে অস্থিরতা চলছে বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই অস্থিরতা দূর করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রি করে চলেছে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।

ডেইলী টাইমন বিডি কে তিনি জানান, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনা-বেচা স্বাভাবিক বিষয়। বাজারে যখন ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায় তখন কেনা হয়। আবার যখন চাহিদা বেড়ে যায় তখন বিক্রি করা হয়। এখন সেটাই করা হচ্ছে।’

সাপ্তাহিক ছুটি, জাতীয় নির্বাচন এবং ব্যাংক হলিডের কারণে ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর টানা চার দিন (শুক্রবার থেকে সোমবার) সব ব্যাংক বন্ধ থাকবে। সে কারণে ২৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ছিল ২০১৮ সালের শেষ কার্যদিবস। আন্ত:ব্যাংক মুদ্রাবাজারে ওইদিন ৯৩ টাকা ৯০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি হয়েছে। দুই মাস ধরে এই দরে ডলার বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমান বিশ্ববাণিজ্যে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ডলার-টাকার বিনিময় হার ৮৫ টাকা করার পরামর্শ দিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

ডেইলী টাইমস বিডিকে তিনি বলেন, ‘ভারত, চীন, ভিয়েতনামসহ অনেক দেশ মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাদের মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন করেছে। বাংলাদেশেও হয়েছে; তবে এ দেশগুলোর তুলনায় খুবই কম।’

তথ্য দিয়ে এই গবেষক বলেন, ‘গত ছয় মাসে ভারতীয় মুদ্রা রূপির বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি। সে তুলনায় বাংলাদেশী মুদ্রা টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে দশমিক ১৮ শতাংশ মাত্র। রপ্তানি আয় এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বাড়াতে নতুন বছরের শুরুতেই ডলালের দর ৮৫ টাকায় ‘স্থির’ করে দেয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ২৩১ কোটি ১০ লাখ ডলার বাজারে ছেড়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

এবার আকুর বিল ১১৫ কোটি ডলার নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে আকুর বিল হয়েছে ১১৫ কোটি ডলার। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে এই বিল পরিশোধ করবে বাংলাদেশ। এর আগে আগে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদে আকুর বিলেল পরিমাণ ছিল ১১০ কোটি ডলার।বাংলাদেশকে দুই মাস পরপর পরিশোধ করতে হয় আকুর বিল।

Comments

0 comments