ভারত, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ‘নিরাপদ’ বাংলাদেশ

বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো বড় দেশের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। সন্ত্রাস কমায় আগের চেয়ে উন্নতিও হয়েছে। সবচেয়ে সন্ত্রাসকবল দেশের মধ্যে আগের বছরের ২১তম অবস্থান থেকে এবার ২৫তম হয়েছে বাংলাদেশ।

মোট ১৬৩টি দেশের ওপর গবেষণা করে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস ‘গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স’ নামে এই সূচক প্রকাশ করেছে।
রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী তৎপরতা অধিক হওয়ায় প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ২০তম। তুরস্ক, থাইল্যান্ড ও মিসরের অবস্থাও বাংলাদেশের পেছনে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি গতবারের তুলনায় অবনতি ঘটেছে।

২০১৬ সালের সূচকে সন্ত্রাসকবলিত দেশের মধ্যে তাদের অবস্থান ছিল ৩২। এবার নয় ধাপ পিছিয়েছে তারা।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তালিকায় পাঁচ নম্বরে রয়েছে পাকিস্তান, ভারতের অবস্থান সপ্তম। সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসের ঘটনার কারণে প্রথম অবস্থানে ইরাক। আফগানিস্তান দ্বিতীয়।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ফিলিপাইন ও মিয়ানমারে সন্ত্রাসবাদের কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় ১৩ ধাপ পিছিয়ে ২৪তম অবস্থানে রয়েছে মিয়ানমার।
২০১৭ সালে করা বিবিসির এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সে দেশে প্রতিবছর গুলিতে এক হাজার ৩০০ শিশু নিহত হয়। দেশটির সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের গবেষকেরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর পাঁচ হাজার ৮০০ শিশু গুলিতে গুরুতর আহত হয়।
যেসব শিশু নিহত হচ্ছে তাদের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ দুর্ঘটনাবশত। বাকিগুলো হত্যা বা আত্মহত্যা। তারা এক বছর থেকে ১৭ বছর বয়সী।

২০০৭ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ৬০ শতাংশ বেড়েছে। গবেষণায় বলা হয়, শিশুরা যখন তাদের পরিবার বা ছেলেবন্ধু এবং মেয়েবন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জটিলতায় পড়ে, তখন তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান শিশুদের আত্মহত্যার প্রবণতা অন্যদের তুলনায় চার থেকে পাঁচগুণ বেশি।

আমেরিকায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন করতে বেশ কয়েকবার সরব হয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কিন্তু তার সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। শিশুমৃত্যু ছাড়াও বিভিন্ন সময় আমেরিকায় বন্দুকধারীদের অতর্কিত হামলায় বহু মানুষ প্রাণ হারায়।

Comments

0 comments